সিলাকিত জীবন – রঙ পেন্সিল।

আমার মনে হয় নিজের
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে
কিছু লেখা উচিত।আমি
কেন সেক্স করি না,দেখা
করি না ইত্যাদি প্রশ্নের
উত্তর দিতে দিতে আমি
ক্লান্ত।

সবাই প্রেমে পড়ে।আমিও
পড়েছিলাম।তবে সেটা
কানাগলিতে অন্ধকারের
সুযোগে ছলকে উঠা প্রেম
নয়।আলোর বন্যায়
ভাসিয়ে দেয়া প্রেম।
যখন ক্লাস এইটে পড়ি
তখন যৌবনের মাতাল
হাওয়ায় আমি উন্মাতাল।
তখনই আমার জীবনে
তার আগমন।আমার বন্ধু
ও ক্লাসমেট ছিল সে।নাম?
ধরো সাব্বির।সবসময়
একসাথে চলার সুবাদে
কখন যে সে আমার হাসি
কান্নার অংশীদার হয়ে
গেল বুঝতে পারি নাই।
মফস্বল এলাকা,মধ্যবিত্ত
পরিবার কিছুই বাধা হয়ে
দাড়াতে পারেনি সে প্রেমের
সামনে।সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি
দেখিয়ে ভাসিয়েছিলাম
প্রেমের সাম্পান।
সত্যিই চুটিয়ে প্রেম করে
গেছি।কত রাত ছাদে
বসে জোত্স্না দেখেছি।
কোলে মাথা রেখে
ঘুমিয়েছি।ঠোটে ঠোট
রেখে কত রাত পার করে
দিয়েছি।দিনগুলো ছিল
বৈশাখী ঝড়ের মত।
শরীর উন্মত্ত হলে মিলন
ও হয়েছে।আমি সাধু নই।
তবে সেটা ছিল গৌন
ব্যাপার।
স্কুল পাশ করে কলেজে
উঠলাম।তখনো প্রেমের
দেয়ালে নোনা ধরেনি।সুখ
শব্দটা বাদে বাকি সব
অচেনা লাগতো।
আমি বুঝতে পারি নাই যে
সবকিছু শেষ হবে বলেই
সবকিছু দ্রুত পাইছি।
একদিন সন্ধ্যায় ও আর
আমি কলেজ ক্যাম্পাসে
বসে আছি।হঠাত্ করে ও
আমাকে বলে, গুল্টু,ধর
আমি কোথাও গেলাম
অনেকদিনের জন্য।তুই
একা থাকতে পারবি?
বললাম পাগলু কেন পারব
না? নেটের কল্যাণে গে
ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে তখন
দুজনেই জানি।
ও আমাকে বললো প্রমিস
কর,যে ঠোটে আমি কিস
দিয়েছি এই ঠোটে আর
কারো টাচ লাগবে না,এই
হাত কেউ ধরবে না,এই
বুকে কেউ মাথা রাখবে না
আমি হাসতে হাসতে
প্রমিজ করলাম।বললাম
আমি কারো সাথে মিটই
করবো না।
ও খুশি হওয়ার বদলে দীর্ঘ
নিশ্বাস ছেড়ে বলল আমি
নিশ্চিন্ত হলাম।
তারপর থেকে ও কেমন
জানি হয়ে গেল।সবকিছু
তেই ব্যস্ততা দেখাতো।
কেমন আনমনা হয়ে
থাকতো।
আমি ভাবতাম ও বুঝি
আমাকে ভুলে যাচ্ছে।
আমি রাগ করতাম।ভাব
ধরতাম ও কোন কিছুতে
খেয়াল করতো না।খালি
গুরুগম্ভীর দাদুর মতো
উপদেশ দিতো।
একসময় ইন্টার পরীক্ষা
শেষ হলো।কোচিং এর
জন্য তোড়জোড় শুরু
করেছি।এমন সময় ওর
ফ্যামিলি থেকে চট্টগ্রাম
ট্যুরে যেতে চাইলো।ঠিক
হলো ওরা চট্টগ্রাম থেকে
ফিরলে দুজন একসাথে
ঢাকা যাবো।মেডিকেল
কোচিং করবো।

হায়!তখনো যদি জানতাম।
এলাকায় আমরা পরিচিতছিলাম
মানিকজোড়হিসাবে।সুতরাং আমাকেও
যেতে বলা হলো ট্যুরে।কিন্তু যাওয়ার
তিনদিনআগে আমার হলো ফ্লু
জ্বরফলে যাওয়া বাতিল হলো।
ওরা যেদিন রাত্রে যাবে সেদিন
বিকালে ও এল বিদায়নিতে।ওর একটু
মনখারাপথাকলেও
আমি হাসিঠাট্টাদিয়ে সেটা পুষিয়ে
দিলামও বলল ওর
নাকি যেতেইচ্ছে করছে না বাট
ওরআব্বু রাগ করবে বলেও যাচ্ছে।
নিতান্তই সাদামাটা ভাবেবিদায়
নিয়ে চলে গেল।আমি ঘুমিয়ে গেলাম।

রাত১১টার
দিকে আম্মুরডাকাডাকিতে ঘুম
ভাঙলোআম্মু
এসে আমাকে বুকেচেপে ধরে আছে।
আরকাঁদছে।আমি তো বেকুব।কিছুপর আব্বু
এসেঅনেক ইনিয়ে বিনিয়েবললো অপু
একটা খারাপখবর আছে।কলিজাটাধ্বক
করে উঠলো।আব্বুবলে ওদের
গাড়ি নাকিএক্সিডেন্ট করেছে।
দুজননাকি মারাত্মক আহত।দুজন
স্পটডেড।আমিবললাম ও কেমন আছে।
আব্বু চুপ করলো।আমিযা বোঝার
বুঝে গেছি।
আমি আম্মুকে আরো শক্তকরে জড়িয়ে ধরে
বাচ্চারমত কেঁদে উঠলাম।সেইসময়ের
অনুভুতি লেখায়প্রকাশ করা যায় না।
সারারাত আচ্ছন্নের মতপড়ে ছিলাম।
পরদিন বিকালে লাশ এলোওরা মুসলিম।
জানাযা দিয়েদাফন হবে।
আমি রাতেইসিদ্ধান্ত
নিয়ে ফেলেছিলামওর দেহ
দেখতে আমিগেলাম না।আমার
স্মৃতিতেযে বেঁচে আছে তার
মৃতঅবস্থা আমি মানব কিকরে।আমার
কাছে ওবেঁচেই থাকুক।ওর রক্তলাল
শরীর আমি দেখতেপারবো না।
আমি আজোওর কবরটা দেখতে যাইনি।ওর
আব্বু ও মারাগিয়েছিল।ওর আম্মুএখন
আমাদের সাথেথাকে
দুঃখের ক্ষত সময়েরপ্রলেপে একসময়
শুকিয়েযায়।কিন্তু কিছু ক্ষত
এমনযে ভিতরে থেকে যায়।
সেখানে হাত পড়লে ঠিকইটনটন
করে ওঠে।ওকেছাড়া আমি ভীষণ
কষ্টেআছি একথা বলব না।কিন্তু
ঠাট্টার ছলে যেপ্রমিস করেছিলাম
তাইএখন আমার জীবন।দৃশ্যহয়েও
আমি অদৃশ্য সবারথেকে।
অনেকে বলে আমিবোকা।একজনের
জন্যকেন আমি নিজেকেবঞ্চিত করছি।
জীবনেরসবকাজে বুদ্ধিমান হতেনেই।
সেই আমার প্রথম ওশেষ প্রেম।
আমি রংপেন্সিলহলেও লাল
রং ঘৃণা করি

10 thoughts on “সিলাকিত জীবন – রঙ পেন্সিল।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s