প্রাচীন গ্রিসের সামরিক বাহিনীতে সমকামিতা

থিবসের পবিত্র ব্যান্ড নামে পুরুষ ও তাদের প্রিয় বালকদের একটি আলাদা সামরিক ইউনিট ছিল। এই ইউনিটের অস্তিত্বই প্রমাণ করে প্রাচীন গ্রিকরা সৈনিকদের মধ্যেকার প্রেমকে কিভাবে তাদের যোদ্ধাসত্ত্বার প্রস্ফুরণ ঘটানোর জন্য ব্যবহার করত। থিবিয়ানদের এই বিষয়টি তাদের পতনের আগে পর্যন্ত বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। ম্যাসিডোনিয়ার দ্বিতীয় ফিলিপ যুদ্ধক্ষেত্রে এদের বীরত্বে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তাদের সমাধিস্থানের পাশে একটি স্মারক তৈরি করিয়েছিলেন। এই স্মারকটি এখনও আছে।

প্লুটার্কের মতে পামেনেসে বলেছিলেন: “হোমারের নেস্টর গ্রিকদের উপজাতিগুলির স্থান ঠিক করতে বলার সময় সেনাবাহিনীকে দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারেননি… প্রেমিকদের সঙ্গে তাঁর যোগ দেওয়া উচিত ছিল। একই উপজাতির পুরুষেরা বিপদের সময় অন্যদের গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু ভালবাসার ভিত্তির উপর যে বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়, তা কখনও ভাঙে না।”

এই ব্যান্ডগুলির নিদর্শন আছে গ্রিক পুরাণের নানা অধ্যায়ে। ইলিয়াড মহাকাব্যে অ্যাকিলিস ও প্যট্রোক্ল্যাসের সম্পর্ক এর একটি উদাহরণ। যুদ্ধের সময় প্রেমিককে রক্ষা করতে তাঁরা যে বীরত্ব দেখিয়েছিলেন, তা এই নীতিকেই অনুপ্রাণিত করেছে। এগুলি একটু ইগালেটারিয়ান ধাঁচের পেডেরাস্টির নিদর্শন। একাধিক গ্রিক ঐতিহাসিক এই জাতীয় সম্পর্কের উল্লেখ করেছেন। এগুলির উল্লেখ আছে দার্শনিক আলাপচারিতাগুলির মধ্যেও। প্লুটার্ক ম্যাসিডোনিয়ার দ্বিতীয় ফিলিপের যে বক্তব্য নথিবদ্ধ করেছেন, তাতে আছে: “শুধুমাত্র বোয়েটিয়ান, স্পার্টান ও ক্রিটিয়ানদেরই এই জাতীয় বলে সন্দেহ করা হয় না; মেলেয়েগার, অ্যাকিলিস, অ্যারিসয়োমেনেস, সিমোন ও এপামিনোনডাসের মতো মহাবীরও এই রকমই ছিলেন।”

এরেট্রিয়ান ও ক্যালকিডিয়ানদের মধ্যে লেলানটাইন যুদ্ধের সময়, ক্যালকিডিয়ানরা ক্লেওম্যাচাস নামে এক যোদ্ধার সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি নিজের প্রেমিককে এনে সেই অনুরোধের উত্তর দিয়েছিলেন। এরেট্রিয়ানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে তিনি ক্যালকিডিয়ানদের জিতিয়ে দেন। কিন্তু নিজে নিহত হন। ক্যালকিডিয়ানরা কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাজারে তাঁর সমাধিমন্দির নির্মাণ করেন। বলা হয়, প্রেমিকের জীবন রক্ষা করতে গিয়েই মানুষ মহান কীর্তি স্থাপন করে। তবে লেলানটাইন যুদ্ধের সময় তা ঘটেনি। তবে এই যুদ্ধে নিজের প্রেমিকের কাছে নিজের স্বার্থশূন্য চরিত্রটি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিলেন ক্লেওম্যাচাস।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s