স্যাফিক প্রেম, গবেষণা ও বিতর্ক

স্যাফিক প্রেমঃ লেসবোস দ্বীপের স্যাফো নারী ও বালিকাদের উদ্দেশ্য করে অনেকগুলি কবিতা লিখেছিলেন। কোনো কোনো কবিতার প্রত্যুত্তর দেখা যায় না, আবার কোনো কোনো কবিতার প্রত্যুত্তর দেখা যায় না। স্যাফো সম্ভবত ১২,০০০ লাইনের কবিতা লিখেছিলেন নারীজাতির উদ্দেশ্যে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৬০০ লাইনই পাওয়া যায়। তাই তিনি প্রাচীন কালের নারী-সমকামী কবি হিসেবে পরিচিত। 

স্যাফো গ্রিক সমাজে “থিয়াসোস” বা অল্পশিক্ষিতা নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেযুগের সমাজে নারীজাতির মধ্যেও সমকামিতার প্রচলন ছিল। কোথাও কোথাও মালকিনের সঙ্গে (স্যাফো তাঁর ছাত্রীদের উদ্দেশ্যেও কবিতা লিখেছিলেন), আবার কোথাও কোথাও সাধারণ নারীদের মধ্যে এই জাতীয় সম্পর্ক ছিল। নগররাষ্ট্রের উদ্ভবের পর বিবাহপ্রথা সমাজ ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে ওঠে। মেয়েরা গৃহবন্দী হয়ে পড়ে। “থিয়াসোস”রা হারিয়ে যায়। ছোটোবেলা থেকেই মেয়েদের দায়িত্বজ্ঞান ও ভাবী স্বামীকে কিভাবে ভালবাসতে হবে তা শিক্ষা দেওয়া হত। সামাজিকভাবে নারী-সমকামিতার কোনো স্থান থাকেনি।

স্পার্টার ইতিহাসে শিক্ষিকা-ছাত্রীর মধ্যে যৌনসম্পর্কের তথ্য আছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে মেয়েরা নগ্ন অবস্থায় অংশ নিত বলেও জানা যায়। প্লেটোর সিমপোসিয়াম-এ এমন মেয়েদের উল্লেখ আছে, যারা “পুরুষদের ধার ধরত না, কিন্তু মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখত।” তবে সাধারণ ভাবে নারী-সমকামিতার ঐতিহাসিক প্রামাণ্য তথ্য বেশি নেই।

গবেষণা ও বিতর্ক

সমকামী বিষয়বস্তু সম্পর্কে দীর্ঘকাল নীরব থাকার পর ঐতিহাসিকরা এই নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এরিক বেথে ১৯০৭ সালে এই আলোচনা শুরু করেছিলেন। পরে কে. জি. ডোভার ও অন্যান্য গবেষণা চালিয়ে যান। এঁরা দেখিয়েছেন যে, প্রাচীন গ্রিসে সমকামিতার খোলামেলা প্রচলন ছিল। তাতে সরকারি অনুমোদনও ছিল। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দী থেকে রোমান যুগ পর্যন্ত এই অবস্থা চলেছিল।

কোনো কোনো গবেষকদের মতে সমকামী সম্পর্ক, বিশেষত পেডেরাস্টির প্রচলন ছিল উচ্চবিত্ত সমাজে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রথার প্রচলন খুব একটা ছিল না। ব্রুস থর্নটনের মতে, অ্যারিস্টোফেনিসের কৌতুক নাটকগুলিতে গ্রহীতার স্থান গ্রহণকারী সমকামীদের প্রতি উপহাস করার প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, পুরুষ সমকামিতাকে সাধারণ মানুষ ভাল চোখে দেখত না। ভিক্টোরিয়া ওল প্রমুখ অন্যান্য ঐতিহাসিকেরা বলেছেন, এথেন্সে সমকামী সম্পর্ক ছিল “গণতন্ত্রের যৌন আদর্শ”। এটি উচবিত্ত ও “ডেমো” (সাধারণ মানুষ) উভয় সমাজেই সমাজভাবে প্রলিত ছিল। হার্মোডিয়াস ও অ্যারিস্টোগেইটন নামে দুই চক্রান্তী-হত্যাকারীর ঘটনা থেকে তা প্রমাণিত হয়। এমনকি যাঁরা বলেন যে, পেডেরাস্টি উচ্চবিত্ত সমাজেই সীমাবদ্ধ ছিল, তাঁরাও মনে করেন যে এটি ছিল “নগররাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামোর অঙ্গ”।

আধুনিক গ্রিসে এই বিষয়ে বিতর্ক হয়েছে। ২০০২ সালে মহামতি আলেকজান্ডার সম্পর্কিত এক সম্মেলনে তাঁর সমকামিতা নিয়ে বিতর্ক হয়। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলেকজান্ডার চলচ্চিত্রে আলেকজান্ডারকে উভকামী হিসেবে দেখানোর জন্য ২৫ জন গ্রিক আইনজীবী চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে ছবির এক আগাম প্রদর্শনীর পর তাঁরা আর মামলা করেননি।

One thought on “স্যাফিক প্রেম, গবেষণা ও বিতর্ক

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s