রাতের ট্রেন ভ্রমণ

একটা কনসার্টে যাচ্ছি ।
রংপুর ।
এইবারের প্রথমবারের মত উত্তরবঙ্গে যাচ্ছি ।
তাই ভেতরে ভেতরে একটা উত্তেজনাও অনুভব করতে পারছি ।
একটা মাইক্রোতে আমরা জনা দশেক গাগাগাদি করে যাচ্ছি ।
আমি বসেছি ড্রাই ভারের ঠিক পাশের সিটে ।
মাথায় হালকা টেনশন কাজ করছে ।
ঠাণ্ডায় গলা বসে গেছে ।
কাল কেমন করে গাইব ।
গড নোজ ।

শীতের এই সময় উত্তবঙ্গে এমনিতেই ঠাণ্ডা বেশি থাকে ।
আর রাত যত বাড়ে ঠাণ্ডাও পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলে ।
সেটা এখন টের পাচ্ছি ।
জানালার গ্লাস দিয়ে বাইরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না ।
সব সাদা কুয়াশার চাদরে ঢাকা ।
মাঝে মাঝে দু একটা গাড়ির হেড লাইট ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না ।
এর চাইতে চোখ বন্ধ করে ঘুমনো ভালো ।

কানে হেডসেট লাগিয়ে চোখ বন্ধ করলাম ।
গান শুনছি ।
আশিকি-২ মুভির ।
রংপুরের কথা বললেই কেন জানি ধ্রুবর কথা খুব মনে হয় ।
ধ্রুবর গ্রামের বাড়ি রংপুরে ছিল ।
ওর কাছে রংপুরের অনেক গল্প শুনেছি ।
ধ্রুব ।
আমার একসময়ের ভালোবাসার মানুষ ।
একসময়ের বলাটা অনেক কষ্টে বলছি ।
আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে ১ বছর হল ।
শুনেছি ও এখন বিসিএস ক্যাডার ।
আর আমি এখনও গান নিয়েই আছি ।
বেশ আছি ।
অথচ এই গান নিয়েই ওর সাথে আমার পরিচয় আর গান নিয়েই ওর সাথে আমার ছাড়াছাড়ি ।
জীবনটা কি অদ্ভুত ।

ধ্রুবর সাথে আমার সাথে পরিচয় একটা গানের অনুষ্ঠানে ।
জাতীয় জাদুঘরে ।
সুফিয়া কামাল মিলনায়তনের সেই ছোট্ট মঞ্চ থেকে যখন গান শেষ করে নামছিলাম তখন সবার আগে এগিয়ে এসে আমায় অভিনন্দন জানাল কোঁকড়া চুল এর একটা ছেলে ।
-দারুন গেয়েছেন আপনি ।
-থ্যাংকস ভাই ।
-কিছু মনে না করলে আপনার সেল নম্বরটা পেতে পারি ?
-অবশ্যই । কেন নয় ।

এরপর শুরু হল ওর সাথে কথা ।
রাতের পর রাত ।
আমাদের কথার বিষয় ছিল গান ।
গানের কথা ।
গায়কীর স্টাইল, ফিউসান সব নিয়ে কথা ।
মাঝে মাঝে গীটার বাজিয়ে আড্ডাও দিতাম সেই ছবির হাটের পেছনের আঁধার ঘেঁষা রাস্তায় ।
ধীরে ধীরে কখন যে দুজন ভালো বন্ধু হয়ে গেছি ।
বুঝতে পারিনি ।
তবে আমি যে ওকে ভালোবাসি সেটা বুঝলাম যেদিন ওর খুব জ্বর হল ।
সেদিন সন্ধ্যায় সবাই মিলে নতুন গানের সুর দিচ্ছি ।
টি এস সি তে বসে ।
কিন্তু ধ্রুবর দেখা নেই ।
আমি গানের নেশায় ওর কথা ভুলে গেছি ।
গান শেষে বাসায় ফিরেই মনে হল ওর কথা ।
ফোন দিলাম ।
ধরে না ।
আবার ফোন দিলাম ।
কোন সাড়া নেই ।
আমার খুব অস্থির লাগছিল ।
মনে হচ্ছিল কি যেন নেই ।
সেদিন বুঝলাম ও আমার মনের অনেকখানি জায়গা করে নিয়েছে । খুব গোপনে ।
রাতটা পুরাই নির্ঘুম কাটল ।
কিন্তু সকাল হতেই আর থাকতে পারলাম না ।
বাইকটা নিয়েই সোজা ওর বাসায় ।
বাসায় ঢুকে ওদের বাসার দরজা নক করতেই ওর মা দরজা খুলল ।
-কি বাবা । ভালো আছ ? এতো সকালে ?
-জি অ্যান্টি । ধ্রুব আছে ।
-হুম । ওর রুমে ঘুমুচ্ছে । কাল বিকেল থেকেই ছেলেটার ১০৩ ডিগ্রী জ্বর । কিছুই বুঝতে পারছি না ।
-এখন কি অবস্থা ।
-এখন জ্বরটা কমেছে ।
-আমি কি একবার যাব ?
-ওকে । যাও । আর শুন সকালে নাশতা করে যেও কিন্তু বাবা ।

ধ্রুবর রুমে ঢুকলাম দরজা ঠেলে ।
ও বেঘোরে ঘুমুচ্ছে ।
ওর খোলা উদোম পিঠ ।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল ওকে জড়িয়ে ধরি ।
জানি না কেন ।
কাছে এগিয়ে গেলাম ।
ওর পাশে বসে ওর কপালে আর মাথায় হাত রাখতেই ও চোখ মেলল ।

-ও তুমি ?
-হুম । এখন কেমন লাগছে ?
-আগের চাইতে ভালো । তুমি কখন আসলে ?
-এইতো এখন ।
-জ্বরটা হয়ে ভালোই হল ।
-কেন বলতো?
-জ্বর না হলে কি আমায় দেখতে তুমি আসতে ? আমার ঘরে ? তুমি যে ব্যস্ত মানুষ !
-রাতে কিছু খেয়েছ ?
-খেতে ইচ্ছে করে না ।
-না খেলে তো আরও দুর্বল হয়ে যাবে ?
-তখন না হয় কারো কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটব !

কথাটা বলেই ধ্রুব চুপ করে গেল ।
আমিও নিসচুপ ।
ইচ্ছে করেই ওর দিকে না তাকিয়ে ওর ঘর দেখছি ।
মাঝে মাঝে চোখ চোখ রাখতেও অনেক লজ্জা লাগে ।
ধ্রুব এই কথাটা কেন বলল ?
আমার মাথায় তখন এই একটা কথা বার বার ঘুরছে ।

অ্যান্টি নাশতা নিয়ে ধ্রুবর ঘরে ঢুকল ।
টেবিলে রেখে বলল,
-দেখ বাবা । ওকে কিছু খাওয়াতে পারো কিনা । কাল থেকে কিছুই খায়নি ।
অ্যান্টি চলে যাবার পর একটা প্লেটে পরোটা আর সবজি নিলাম ।
ধ্রুব এখন বিছানায় আধশোয়া ।
ওর লোমশ খোলা বুকের কিছুটা নিচ থেকে একটা কাঁথা দেয়া ।
আমি পরোটা ছিঁড়ে ওর মুখে দিলাম ।
ও মুখ বাড়িয়ে খেল ।
আমি ছিঁড়ে ছিঁড়ে দিচ্ছি ।
ও খাচ্ছে ।
মজার ব্যাপার হল কেউ কোন কথা বলছি না ।
ও হথাত আমাকে জড়িয়ে ধরল ।
ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটল ।
আমি কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না ।
ও কাঁদছে ।
আমাকে জড়িয়ে ধরে ।
আমার এক হাতে প্লেট । আরেক হাতে সবজির ঝোল লাগানো ।
আমি ওকে জড়িয়ে ধরতে পারছি না ।
ও কেঁদেই যাচ্ছে ।

সেদিন আমি আর তেমন কিছু বলিনি ।
ওকে ওষুধ খাইয়ে চলে আসি বাসায় ।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে অঙ্ক মেলাচ্ছিলাম । ধ্রুব আর আমার সম্পর্কের ।
আমি কি ওকে ভালোবাসি ?
সেটা কেমন ভালবাসা ?
ধ্রুব আমাকে আজ এসব কথা বলল কেন ?
ও তো কখনও এমন করে না !
আমি কি ভেতরে ভেতরে সমপ্রেমি ?
আমার পিছনে অনেক মেয়েই ঘুরে ।
কিন্তু কেন জানি না কখনোই প্রেম করা হয় নি ।
আসলে বেশিরভাগ মেয়েরাই খুব ন্যাকামো পনা দেখায় । যেটা আমার পছন্দ না ।
আমি নিজেকে নিয়ে কনফিউসড ।

ঠিক ২ দিন পর ধ্রুবর জ্বর কমল ।
ও দুদিনে অনেক শুকিয়ে গেছে ।
আমরা সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছি । গীটার বাজিয়ে গান গাচ্ছি ।
ধ্রুব চুপ করে এক কোনায় বসে আছে ।
আমি বিষয়টা খেয়াল করলাম ।
গান থামিয়ে ধ্রুব কে নিয়ে একটু দূরে গিয়ে বললাম,
-তোমার কি মন খারাপ ?
-না ।
-শরীর খারাপ ?
-না ।
-তাহলে ?
-ভাবছিলাম ।
-কি ভাবছিলে ?
-ভাবছিলাম কাল থেকে আর আড্ডায় আসব না ।
-কেন বলতো ।
-আমার ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে ।
-কি কষ্ট ! আমি কি জানতে পারি না ? আমি তো তোমার বন্ধু তাই না ?
-কথাটা তোমাকে বলা ঠিক হবে কিনা জানি না ।
-ঠিক বেঠিক বুঝি না । বল । বলে ফেল । হালকা লাগবে ।
ধ্রুব এক মিনিট সময় নিল ।
খুব বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,
-আমি বোধহয় তোমাকে চাই ।
আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে আছি ।
আমার বুকের ভেতর কেমন জানি একটা আনন্দের ঝড় বইছে ।
আমি কিছু না বলে ধ্রুবর হাতে হাত রাখলাম ।
ধ্রুব বুঝতে পারল আমার উত্তর ।

সেই থেকে ও আর আমি বন্ধু , প্রেমিক , ভালোবাসার সঙ্গী ।
যখন যেখানে কনসার্ট করতে যেতাম ধ্রুব ছিল আমার ছায়া সঙ্গী ।
আমার নতুন কোন গান ।
নতুন কোন সুর । সব কিছুর মাঝে ও ছিল ।
আমি চোখ বুজে যখন গান গাইতাম ।
ওকে ফিল করতাম ।
আজও বোধহয় করি ।
অথচ আমাদের মাঝে ছাড়াছাড়িটাও হয়েছে এই গানের জন্যই ।

সেবার একটা রিয়্যালিটি শো তে আমি অংশ গ্রহন করলাম ।
কিভাবে কিভাবে যেন সেরা ২০ এ চলে আসলাম ।
সারাদিন ব্যস্ত আমি । এস এম এস ভোট এসব নিয়ে ।
এমনও সময় গেছে আমি ৩ ঘণ্টাও ঘুমোই নি ।
কিন্তু আমি জানতাম না এই সময়টাতেই ধ্রুব আমাকে ভুল বুঝবে ।
ও যখন ফোন দিত হয়ত আমি ব্যস্ত থাকতাম ।
কিংবা কারো সাথে কথা বলতাম !
একদিন সন্ধ্যার কথা ।
আমি চারুকলায় বসে আড্ডা দিচ্ছি ।
ধ্রুব হথাত কোথা থেকে হন্তদন্ত হয়ে আসল ।
আমাকে কিছু না বলে টেনে হিঁচড়ে চারুকলার সার্কেলে যে গর্তটা আছে সেটার কাছাকাছি নিয়ে বলল,
-তোমার সাথে কিছু জরুরী কথা আছে ।
-হুম বল ।
-তুমি কাল থেকে মিউজিক ছেড়ে দিবে ।
-আর ইউ ম্যাড ?
-হুম । আমি তোমাকে হারাতে চাই না ।
-এসবের মানে কি ? তুমি জানো আমি এখন কি নিয়ে ব্যস্ত থাকি । আমি কেন তোমার কাছ থেকে দূরে যাব ? তোমার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে । বি কুল ম্যান ।
-আমি কুলই আছি । কাল থেকে গান বন্ধ ।
-ধ্রুব, বাসায় যাও ।
-আমি যাব না । আমি আমার উত্তর জানতে চাই ।
-মিউজিক ইজ মাই লাইফ । উত্তর পেয়েছ ?
-আসলে মিউজিক ফিউজিক এসব হচ্ছে বাহানা । তুমি আসলে এসবের লোভ দেখিয়ে নতুন নতুন পোলা ফাঁসাও ।
-ও গড । তুমি এসব কি বলছ ?
-আমি যা বলছি সত্যি বলছি । নাহলে তোমার মোবাইল এতো বিজি পেতাম না ।
-আমার মোবাইল কেন বিজি থাকে সেটা কি তুমি জানো না ? তুমি কি জানো না এখন কত মানুষের সাথে আমার যোগাযোগ করতে হয় ?
-আমার দরকার নেই । আমি জানি তুমি সেলিব্রিটি হলেই আমার কাছ থেকে দূরে যাবে ।
-ধ্রুব পাগলামি করে না । আমি তোমার আছি । তোমার থাকব ।
-তুমি তাহলে এসব মিউজিক এর নামে নস্তামি করেই যাবে ?
আমার মাথায় রাগ উঠে গেল ।
ঠাস করে জোরে একটা কষে চড় লাগালাম ধ্রুবর গাল বরাবর ।
ধ্রুব ছিটকে পড়ল ।
আমি এগিয়ে গিয়ে ওকে উঠালাম ।
কিন্তু ও আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার গলা চেপে ধরল ।
-আজ তোর গলা আমি শেষ করে দিব ।
আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে ।
শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল ।
ডান পা দিয়ে খুব জোরে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে লাথি দিয়ে ফেলে দিলাম ।
এক দৌড়ে চারুকলার বাইরে এসেই বাইক নিয়ে পালিয়ে গেলাম ।

সবকিছু এতো দ্রুত ঘটল ।
বাসায় এসে কাপড় জামা গুছিয়ে এক বন্ধুর বাসায় চলে আসলাম ।
কারণ আমি জানি ধ্রুব এখন আমার বাসায় যাবে ।
আমি ঠিক করেছি ওর সাথে আর কোন সম্পর্ক রাখব না ।
যে আমায় বুঝে না । তার সাথে কিসের সম্পর্ক ।
ভালবাসা মানে কারো কাছে নিজের সবকিছু বিক্রি করা নয় ।
ভালবাসা মানে কারো খেলার পুতুল হওয়া নয় ।
প্রত্যেকের জীবনে একটা জগত থাকে ।
ভালোবাসার মানুষ আসে সেই জগতটাকে আরও ভরিয়ে দেবার জন্য ।
একা কিংবা আঁধারে ঠেলে দেয়ার জন্য নয় ।

মোবাইলের সিম পালটে ফেললাম ।
ধ্রুবর সাথে যোগাযোগ একবারেই নেই ।
এর মাঝে অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে ।
আমি ইচ্ছে করেই দূরে থেকেছি ।
ঝামেলা আমার ভালো লাগে না ।
আর যে সম্পর্কের সুতো মন থেকে ছিঁড়ে গেছে তাকে জোর করে টেনে নেয়ার মত মানুষ আমি নই ।
আস্তে আস্তে সব পালটে গেল ।
আমি এখন মিউজিক নিয়েই ব্যস্ত , দিনরাত কাটে গানের সাথে ।
অনেকেই চেনে ।
টি ভি তে নিয়মিত অনুষ্ঠান করি ।
২ টা এ্যালবামও বেরিয়েছে ।
আমি আছি আমার মত ।

ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি গাড়িতে ।
খেয়াল নেই ।
বন্ধুদের ডাকে ঘুম ভাঙল ।
রংপুর এসে গেছি ।
হাত ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল ১০ টা বাজে ।
কনসার্ট বিকেল ৬ টায় ।
যাক ভালোই হল । একটু রেস্ট নিয়ে ধীরে সুস্থে প্রিপারেশন নেয়া যাবে ।
হোটেলে রুমে ঢুকেই ফ্রেস হয়ে এক চাপ চা খেলাম ।
রংপুর শহরটা ঢাকার তুলনায় অনেক নিরব ।
ধ্রুব প্রায়ই বলত ।
হোটেলের বারান্দায় এক ফালি রোদ এসে পরেছে ।
উষ্ণ রোদ শরীর মন দুটোকেই চাঙ্গা করে তুলছে ।
ভালোই লাগছে ।
মনে হচ্ছে আজকের কনসার্ট টা ভালোই হবে ।

বিকেল ৫ টা বাজে ।
রেডি হচ্ছি । কনসার্টে যাওয়ার জন্য ।
ব্ল্যাক আমার খুব পছন্দের কালার ।
আমার লাকি কালার ।
তাই ইচ্ছে করেই সব ব্ল্যাক পড়লাম ।
ব্ল্যাক জিন্স । ব্ল্যাক টি শার্ট আর ব্ল্যাক জ্যাকেট ।
হাতে একটা ব্রেসলেট পড়লাম ।
এটা আমার মায়ের দেয়া ।
এটা পড়লে স্টেজে একটা শক্তি পাই মনে ।
সবই মনের শান্তি আর কি ।
আপন মনে হাসলাম ।
আমি আজও এসব বিশ্বাস করি । এই ভেবে ।

রংপুর কারমাইকেল কলেজে আমাদের প্রোগ্রাম ।
হোটেল থেকে খুব বেশি দূর নয় ।
মাইক্রোতে বসে সবাই কি কি গান গাইব এসব একটু ঝালাই করে নিচ্ছি ।
কোন স্কেলে ধরব এই সব আলোচনা করছি ।
ঠিক পৌনে ৬ টায় কলেজ মাঠে পৌঁছলাম ।
কলেজ মাঠেই কনসার্ট হবে ।
আমাদের গাড়ি থেকে গার্ড দিয়ে যেখানটাতে কনসার্ট হবে তার পেছনে নিয়ে যাওয়া হল ।
কনসার্ট এর মাঝেই শুরু হয়ে গেছে ।
রংপুরের লোকাল কিছু ব্যান্ড আর শিল্পিরা গান গাচ্ছে ।
নিজেদের বেশ ভি আই পি লাগছিল ।
স্টেজের পেছনে বসে আছি ।
গীটার এর টিউন ঠিক আছে কিনা চেক করে নিচ্ছি ।
প্রত্যেকটা কনসার্টেই একটা গান দিয়েই আমি শুরু করি ।
আমার পছন্দের একটা গান ।
আজও সেটা দিয়েই শুরু করব ।

মাইকে আমার নাম ঘোষণা হচ্ছে ।
আমার সাথের মিউজিসিয়ানরা এর মাঝেই মঞ্চে চলে গেছে ।
আমি এক গ্লাস পানি খেলাম ।
এবার মঞ্চে প্রবেশ করব ।
স্টেজে ঢুকতেই সবাই চিৎকার দিয়ে উঠল ।
মাঠে হাজার হাজার স্টুডেন্ট, লোকজন ।
আমি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে কিছু বলতে যাব ।
তখনই আমার বুক ধক করে উঠল ।
স্টেজের ঠিক সামনেই প্রধান অতিথি অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের সাথে বসে আছে ধ্রুব ।
সেও আজকের প্রোগ্রামের অতিথি ।
আমি কি করব বুঝতে পারছি না ।
একবার চোখ বুজলাম ।
মনে মনে নিজেকে বললাম,
-তুমি শিল্পী । শিল্পিদের মাঝে মাঝে আবেগ অনুভূতি শুন্য হতে হয় । এখন তোমার কাজ শুধু গান গাওয়া । নাথিং এলস ।
আমি শুরু করলাম,
আমার লাকি সং,
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া………সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে………………
আমি গানে মেতে উঠেছি ।
হৃদয়ের সমস্ত আবেগ দিয়ে গাচ্ছি ।
কনসার্টের সবাই আমার সাথে সুর মেলাচ্ছে ।
আমার কণ্ঠের সাথে হাজারো কণ্ঠ মিশে যাচ্ছে ।
আচ্ছা, ধ্রুবও কি এখন আমার সাথে গলা মিলিয়ে গাচ্ছে …………………?

One thought on “রাতের ট্রেন ভ্রমণ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s