কোন এক নিশুতি রাতে তাকে/তদেরকে কোন বন্ধু/বড়ভাই/আঙ্কেল সুযোগ পেয়ে দুষ্টু কাজ করে

আচ্ছা, তবে যে কেউ কেউ বলে, কোন এক নিশুতি রাতে তাকে/তদেরকে কোন বন্ধু/বড়ভাই/আঙ্কেল সুযোগ পেয়ে দুষ্টু কাজ করে দিয়েছিলো বলেই তারা হোমোসেক্সুয়াল হয়ে গেছে, এটা কতটুকু সত্যি?

আবার কোন কোন মহান সমকামীকে মাঝে মাঝে ফেইসবুকে স্বগতোক্তি করতে শুনি, “অমুখকেও কি আমি এই দুষ্টু পথের সন্ধান দিয়ে নষ্ট করবো?” যেন চাইলেই সেই অসীম ক্ষমতাধর যে কাউকে সমকামী বানিয়ে দিতে পারে!
আবার কখনো কখনো কোন কোন মহাজ্ঞানীকে থিওরী ঝাড়তে শুনি, ছোটবেলায় কোন পুরুষলোকের সাথে ‘মজার’ অভিজ্ঞতা থাকার ফলেই না কি মানুষ এত্তগুলা পচা, অর্থাৎ সমকামী হয়ে যায়।
তাহলে ছোটবেলায় শুচি নামের একটি মেয়ে যে আমার সাথে প্রায়ই অশুচি কাজকম্মো করতো, তাতে আমি বিষমকামী না হই, নিদেনপক্ষে উভকামী হলাম না কেন?

আমার পাঁচ-ছ’ বছর বয়েসে আমার চেয়ে বছর দু’একের বড় সেই মহীয়সী বালিকা রান্নাবাটি খেলার ছলে প্রায়ই আমাকে চিপায় নিয়ে যেতো। নিয়ে গিয়ে তারপর………আল্লা কি আর বলবো! আমার ছোটপাখিটিকে হাতে নিয়ে ধুমসে কচলাতো! এমনকি তার “ওটি” ও আমার হাতে ধরিয়ে দিতে চাইতো কখনো-সখনো! সত্যি করে বলতে কী, আমি ভী………ষ……ণ বিরক্ত হতাম, বারবার সরে যেতে চাইতাম, আর বলতাম, “চলো না, খেলি!” সব্বার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে খেলা বলতে আমি রান্নাবাটি খেলাকেই বুঝতাম, রান্নাবাটি বাদ দিয়ে শুচি আমার নিম্নাঙ্গ করতলগত করে বসে থাকায় আমি অধৈর্য্য হয়ে উঠতাম। এমনকি দু’চার বার মায়ের কাছে বিচারও দিয়েছিলাম। শুচি, যার নামের অর্থ পবিত্রতা, আমায় তখন হুমকি দিয়েছিলো, এমন করলে আর খেলতে আসবে না আমার সাথে। আমার তো তখন আর কোন খেলার সাথী নাই, তাই কি আর করা! মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করতাম সেসব তো বহুদিন আগের কথা, বড় হওয়ার পর ও শুচিকে মাঝে মাঝে দেখেছি, খুব সম্ভবতঃ মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলো তখন সে। এতদিনে নিশ্চয়ই নিকাহ করে কয়েকখানা গেন্দা-গেন্দির মা ও হয়ে গেছে। যতদূর মনে পড়ে, বাল্যকালের সেইসব আবেগঘন মুহুর্তেও তার শরীরের ব্যাপারে আমার কোনরকম অনুভূতি হতো না
এমনকি আজ পর্যন্তও কখনোই সেসব স্মৃতি রোমন্থন করে বা না করে, তার প্রতি বা অন্য কোন রমনীর প্রতি আমার বিন্দুমাত্র যৌন আগ্রহ জাগে নি!

ছোটবেলায় একটি ‘অবলা’ বালিকার সাথে এমন সব “সুখের” সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা থাকার পরও তো আমি খাঁটি সমকামীই রয়ে গেলাম, পুরুষদের প্রতিই অখন্ড আকাংক্ষাই পোষণ করে গেলাম গোটা জীবন।
তাহলে স্বঘোষিত সেইসব জ্ঞানী-গুণীদের মস্তিষ্কপ্রসূত এবং মুখ-নিঃসৃত “গে করে ফেলা” থিওরী কতটুকু বাস্তব? না কি ইহা নিতান্তই একমুখী সূত্র, vice versa কাজ করতে অসমর্থ?

কি জানি বাপু! অত বুদ্ধি তো আর আমার ঘটে নেই! সবার ফ্রী-তে বিলানো সব জ্ঞানও তাই অত সহজে হজম করতে পারি না!

মূল লেখকঃ উইন্ডি স্ট্রম।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s