চরিত্রহীন

আজ সকালে যখন হাঁটছিলাম, একবুড়ো নিজে থেকে এসে পরিচিত হলো। কথা বলতে বলতে যৌনাঙ্গ ছুঁয়ে দিলো, তারপর যখন দেখলো আমি কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছি না, স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেশ দেয়ার ছলে অনেকক্ষণ ধরে ধন টিপলো। হাহাহাহা। আমি বাধা দিই নি। কেন দিই নি? আমার মুখে শক্ত কথা আসে না বলে? আমি লোককে মুখের উপর অপমান করতে পারি না বলে? না কি আমি বুঝতেই পারি নি যে পিতামহের বয়েসী কোন লোক এই কাজ করতে পারে?উপরের কারণগুলোর প্রত্যেকটাই হতো অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে সত্যি হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করো, এ ক্ষেত্রে , এর কোনটাই সত্যি না। লোকটা প্রথমে যখন আমার হাত ধরলো, তখনই আমার বিরক্তি লেগেছিলো, এবং সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু কথা হলো, সন্দেহ তো রাস্তা-ঘাটে, আশে-পাশে কতজনকেই করে বসি। তার কতগুলো সত্যি হয়?কিন্তু লোকটা প্রথমবার যখন আলতো করে যৌনাঙ্গে হাত বুলালো, আমার আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিলো না, তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে।

তারপরও আমি বাধা দিই নি। কেন দিই নি? নাহ, আমি নরম-সরম বলে না, আসলে আমার ভালো লাগছিলো। না, কোন যুক্তি দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবো না। যা নিখাঁদ সত্যি, তাই বলবো। যতবার দাড়িওয়ালা বুড়ো লোকটা, যার দাঁতগুলো ছিলো হলদে, ময়লা; আমার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করছিলো, ততবারই আমি উত্তেজিত হয়ে উঠছিলাম। লোকটা কি খুব আবেদনময় ছিলো? নাহ, একদমই না।
তাহলে কেন উত্তেজিত হচ্ছিলাম? জানি নাহ। যৌন-অভিজ্ঞতা আমার নিদারুণ অল্প বলেই হয়তো। তার প্রত্যেকটা কথা শুনেই আমি বুঝতে পারছিলাম, হি ইজ আ চিট। তারপরও, আমি বারবার চাইছিলাম, যেন সে বারবার আমার লিঙ্গ ঘষতে থাকে। আশ্চর্য্য ব্যাপার হলো, আমার শুধুমাত্র তখনই খারাপ লাগছিলো, যখন খেয়াল করেছি আশেপাশে কেউ হেঁটে যাচ্ছে।

কিন্তু এখন আবার খারাপ লাগছে। কেন লাগছে? বুঝতে পেরেও কেন লোকটাকে যৌনাঙ্গ ঘষতে দিলাম, কেন বাধা দিলাম না – সে জন্য?
না কি মুখ ফুটে না করতে পারলাম না, বা বাধা দিতে পারলাম না – সে কারণে? আসলে বাধা দিতে তো আমার ইচ্ছেই হয় নি। ইচ্ছে হয় নি অপমান করতেও। ঐ যে বললাম না, আমি উপভোগ করছিলাম ঐ স্পর্শ; যদিও সেটা কোন এক পাকাদাড়িওয়ালা বুড়োর হাত ছিলো। ছিলো, তো? হাত তো ছিলো? বিষমকামীদের ইংরেজিতে স্ট্রেইট বলে। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় “সোজা”। তাহলে আমার যৌনতা কি বাঁকা? হবে হয়তো বা। হোক না। যাই হোক নাই হোক, আমি তো আমিই, না? সবাই ঘৃণা করলেও তো আমি নিজেকে অত ঘৃণা করতে পারি না। সে যাই হোক, খারাপ লাগছিলো কেন? বাবা-মা জানতে পারলে কষ্ট পাবে বলে? বন্ধুরা-আত্মীয়রা শুনতে পেলে ছি ছি করবে বলে? বাবা-মা কখনোই এটা জানতে পারবে না, একটি নির্জন ভোরবেলায় আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা আমি না বললে বাবা-মা, বন্ধু বা আত্মীয়, কারো সাধ্য নেই জানার, শোনার। আমি খুব ভালোমতোই জানি সেটা। তারপরও, প্রতিটিবার, যখনই আমি কোনরকম যৌন অভিজ্ঞতার কাছাকাছি যাই, আমার মনে একটা কথাই আসে, “বাবা-মা জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবে।”

পর্ণ দেখার সময় কি কখনো এমন হয়? নাহ, একদমই না। কেন?কারণ আমার সমবয়সী অসংখ্য বন্ধু এটা নিয়ে এত কথা বলে, এত অসংখ্যবার এ প্রসঙ্গের উত্থাপন ঘটে যে, এটা আর অস্বাভাবিক বা অন্যায় বলে মনে হয় না। হয়তো বা প্রথম প্রথম পর্ণ দেখা নিয়েও এমনই পাপানুভূতি হতো।ছেলেদের প্রেমে পড়া নিয়েও একই অনুভূতি হয়?না তো, আসলে বুঝতে পারার অনেক আগে থেকেই ছেলেদের প্রেমে পড়ে আসছি, কখনো মাথায় ঐ ভাবনা আসার সুযোগই পায় নি এ ব্যাপারে।তার মানে দাঁড়ালো, ছেলেদের প্রেমে পড়া, তাদের নিয়ে যৌন কল্পনা করাটাও অভ্যস্ততায় পরিণত হইয়ে গেছে বলে ও নিয়ে আর কোন পাপবোধ নেই।তাহলে কি একদিন রাস্তাঘাটে যাকে-তাকে দিয়ে ধন টেপানো, যার-তার সাথে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় চলে যাওয়াটাও ডাল-ভাত মনে হবে? অভ্যেস হয়ে গেলে হয়তো হবে। কিন্তু আমি তো সেটা চাই না, আমার প্রচন্ড খারাপ লাগে এমন ভাবতে। অথচ তসলিমা নাসরিনের যৌন স্বাধীনতা বিষয়ক লেখাগুলো, হুমায়ুন আজাদের বা সুনীলের অবাধ যৌনতা বিষয়ক গল্পগুলো, কিংবা অবাধ যৌনতার সিনেমাগুলো – কোনটাই আমার কাছে খুব বেশি খারাপ বা অবাস্তব বলে মনে হয় নি। বরং খুব স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছিলাম, এবং এটাও স্বীকার করে নিয়েছিলাম যে সতীত্বের বা সততার নাম করে নিজেকে অতৃপ্ত রাখাটা পুরোপুরি ভন্ডামী।কিন্তু নিজের বেলায় এমন হচ্ছে কেন? কেন অযৌন জীবন-যাপনকেই বেশি সম্মানজনক, বেশি ‘শুদ্ধ’ বলে মনে হচ্ছে?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s