কলকাকলী

কোকিলের সাথে মোরগের বন্ধুত্বটা হয় ফেইকবুকে। অবাক হচ্ছেন? হলে হন। আমার কী! মানুষের জগতে যেমন ফেইসবুক আছে, পাখিদের জগতে আছে ফেইকবুক। ও হ্যাঁ কী যেন বলছিলাম? কোকিল আর মোরগের কথা। সে কী বন্ধুত্ব দুজনের! যেন কত যুগ যুগ ধরে তাদের পরিচয়। কোকিল যখন ফোনে মোরগকে বন্ধু… বলে তার সুললিত কন্ঠে ডাক দেয় না, মোরগ তার সারাদিনের সব ক্লান্তি আর বিরক্তি এক নিমেষেই ভুলে যায়। তো, একদিনের কথা। কোকিল মোরগকে বলল,

– বন্ধু তোমাকে দেখতে খুব মনে চায়। কী করি বলো তো?
– আমারো তোমাকে দেখতে মনে চায়, কী করা যায়? কী করা যায়? হুম, পেয়েছি! তুমি আর আমি একে ওপরকে সামনাসামনি দেখব। ছবিতে নয়। ঠিক আছে? দারুন মজা হবে।
– হা হা হা। সত্যিই তো! আচ্ছা ঠিক আছে। তবে তাই হোক।

কোকিলের আর তর সয় না। কবে পাবে সে বন্ধুর দেখা! অস্থির হয়ে উঠে সে। কোকিলের পাঠশালা সিলেটে। আর মোরগ বেচারা থাকে ঢাকায়। তাই চাইলেও তাদের মধ্যে দেখা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কোকিল মোরগকে সিলেট বেড়াতে আসতে বলে। কিন্তু সিলেট? সে তো মেলা দূর! মোরগ কি আর কোকিলের মতো উড়তে পারে? বেচারা কিভাবে যাবে তার বন্ধুর কাছে বেড়াতে? একদিন এক উপায় বের করলো কোকিল। অনলাইনে মোরগকে পেয়ে বলল,

– বন্ধু, আমার বাড়ি তো ঢাকার কাছেই, ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসবো ইনশাআল্লাহ্‌। তখন এক ফাঁকে ঢাকায় এসে তোমাকে দেখে যাব।
– সত্যি? তবে তাই হোক।
– কিন্তু বন্ধু, আমার খুব ভয় হয়। দেখা হওয়ার পরে যদি তোমার আমাকে পছন্দ না হয়!
– কেন পছন্দ হবে না? আমি তো তোমার মন দেখে তোমার সাথে বন্ধুত্ব করেছি। তোমার চেহারা আমার কাছে মোটেই গুরুত্বপুর্ন নয়। আর আমিও দেখতে তেমন একটা সুন্দর নই যে আমাকে দেখে তোমার খুব ভালো লাগবে। তবে একটা কথা বলতে পারি, তোমার আর আমার বন্ধুত্বটা হয়েছে দুজনের মন দেখে। চেহারা দেখে নয়। সুতরাং দেখা হওয়ার পরেও আশা করি আমাদের বন্ধুত্বে কোন ফাটল ধরবে না।
– কিন্তু বন্ধু, আমি তো কালো।
– তো কি হয়েছে? আমি তো তোমাকে বললামই, আমি তোমার মন দেখে তোমার সাথে বন্ধুত্ব করেছি। তোমার চেহারা দেখে নয়। আর তোমার মনটা হুইল পাউডার দিয়ে ধোয়া স্কুল শার্টের মতই ধবধবে সাদা। একটুও কালো নয়।
– ও বন্ধু, তুমি এত ভালো কেন?
– আসলে তুমি মানুষটা ভালো বলেই আমার মতো একটা সাধারন মোরগকে তোমার ভালো মনে হয়েছে। আচ্ছা বন্ধু, আমি এখন যাই। ঘুমাতে হবে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিয়ে আবার মানুষকে ফজর নামাজের সময় জাগাতে হবে আমার।
– আচ্ছা বন্ধু যাও। বন্ধু, তোমাকে ভালবাসি।
– আবার জিগায়! আমিও তোমাকে ভালবাসি।
– একটা চুমা দেই?
– আবার জিগায়! দাও দাও জলদি দাও।
– উম্মাহ…
– উম্মাহ…

এর মাঝে মোরগের সাথে ফেইকবুকে পরিচয় হয় ময়ূরের। কথা প্রসঙ্গে দুজনেই জানতে পারে যে তাদের পাঠশালা একই। বিশাল পাঠশালা তো, তাই একে অন্যকে চিনতে পারে না। মোরগ আর ময়ূর দুজনেই এতে ভারি অবাক হয়। মোরগের চেয়ে ময়ূর আবার দুই ক্লাস ছোট। সিনিয়র ভাইকে সম্মান করাটা ময়ূর খুব ভালভাবেই রপ্ত করেছে। চ্যাটে মোরগকে সে ভাইয়া ডেকে ডেকে অস্থির করে ফেলে। মোরগও খুব খুশি। তার আবার কোন ছোট ভাই নেই কিনা! ময়ূরকে সে নিজের ছোট ভাইয়ের জায়গায় স্থান দেয়। আদর করে ডাকে পিচ্চি। ময়ূর ও তাতে খুব খুশি। এই ফেইক ওয়ার্ল্ডের মাঝে একজন বড় ভাই পেয়ে। ও হ্যাঁ একটা কথা তো বলাই হয়নি। মোরগ, কোকিল আর ময়ূরের মাঝে নানাদিক থেকে অনেক অমিল থাকলেও তাদের তিনজনের মাঝে একটা মিল আছে। তারা তিনজনই সমলিঙ্গের পক্ষীকূলের প্রতি কিঞ্চিত আকর্ষণ বোধ করে। পক্ষীকুলের মাঝে বিসমপ্রেমীর অভিনয় করতে করতে তারা সকলেই খুব ক্লান্ত। তাই তিনজনই ফেইকবুকে ফেইক আইডি ব্যবহার করে নিজেদের ভেতরের গোপন আমিত্বটাকে একটু প্রকাশ করার জন্য।

সে যাই হোক, কাকতালীয়ভাবে ময়ূর আর মোরগের বাসা আবার কাছাকাছি। এটা জানতে পেরে ময়ূর অনেক অবাক হয়। তাদের পাঠশালা যেহেতু একই জায়গায়, তাদেরকে একই পথ ধরে পাঠশালায় যেতে হয়। ময়ূর বুঝতে পারে যে মোরগ ভাইয়ার সাথে তার যেকোন দিন, যেকোন সময় দেখা হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের পরিচয়ের প্রথম দিকেই সে মোরগকে শর্ত বেঁধে দেয় যে তার সাথে কখনো দেখা করা যাবে না। মোরগ বেচারা তাতেই রাজি। সে আবার একটু বেকুব টাইপের কিনা, তাই ধুরন্ধর ময়ূরের কথা এক বাক্যে মেনে নিয়ে আদরের পিচ্চিটাকে দেখার সাধ তার মনের মাঝেই চাপা দিয়ে রাখে। ছোট ভাইয়ের আব্দার। তাকে সামনাসামনি কখনো দেখা যাবে না। তাই বড় ভাই হয়ে ছোট ভাইয়ের অনুরোধ সে ফেলতে পারে না। এদিকে ময়ূর মিয়া আবার বহুত চাল্লু মাল। সে চালাকি করে ঠিকই মোরগের রিয়েল আইডি খুঁজে বের করে ফেলে। আর দেখে ফেলে মোরগের ছবি। একদিন মোরগকে ফেইকবুকে পেয়ে বলে,

– ভাইয়া, আমি মনে হয় আপনাকে চিনতে পেরেছি।
– কিভাবে?
– পাঠশালায় যাওয়ার পথে দেখেছি। (মিথ্যা বলতে রীতিমত ওস্তাদ সে!)
– ও তাই! (মন মরা হয়ে যায় মোরগ)
– আপনাকে দেখে মনে হয় না যে আপনি এত ওপরের ক্লাসে পড়েন।
– কী মনে হয়?
– মনে হয় সেকেন্ড বা থার্ড ইয়ার।
– ও! তা তুমি তো আমাকে দেখে ফেললে, আমি তোমাকে দেখার সুযোগটা পাচ্ছি কবে?
– পাচ্ছেন না।
– কেন?
– কারন আমি আপনার সাথে দেখা করবো না।
– তাহলে তুমি যে আমাকে দেখে ফেললে, তার কী হবে! (মোরগের কন্ঠে বেকুব বেকুব ভাব)
– কী আর হবে? আমি কী আপনাকে ইচ্ছা করে দেখেছি নাকি? দূর থেকে দেখে চিনে নিয়েছি। আপনিও পারলে আমাকে সেভাবে দেখে চিনে নেন!
– হয়েছে ভাই। ঘাট মানছি। তোমার মতো এত বুদ্ধি আমার নেই। পাঠশালায় এত পাখি উড়াউড়ি করে, তার মধ্যে আমি তোমাকে কিভাবে চিনব?
– না চিনলে না চিনবেন! আমার কী? (এই বলে একটা কোলন ডি😀 দিয়ে দিল ময়ূর। মোরগ বেচারা বেকুবের বেকুবই রয়ে গেল।)

কোকিলের কথা মনে আছে তো? মোরগের জানে জিগার দোস্ত! একদিন কোকিল মোরগকে ফেইকবুকে বলল,

– বন্ধু, প্রেম করতে মনে চায়। কী করি কও তো!
– প্রেম করতে মন চায় করবা, এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয় নাকি?
– না মানে, পাচ্ছি না তো। দেখতে ভালো হলে মন কালো, আর মন ভাল হলে দেখতে কালো। কী যে করি!
– আহারে আমার বন্ধুটা! আচ্ছা দাঁড়াও দেখি তোমার জন্য কি করতে পারি।

মোরগ দেখল ময়ূর তখন অনলাইনেই আছে। নক করলো। টুকটাক কথাবার্তার পর আসল কথা পাড়ল মোরগ।

– প্রেম করবা?
– কার সাথে? আপনার সাথে? আপনে না বড় ভাই? ( বলেই একটা কোলন পি😛 দিয়ে দিল ফাজিল ময়ূরটা। মোরগকে পেইন দিয়ে সে খুব মজা পায়।)
– (কোলন স্ল্যাশ:/ দিয়ে যথারীতি বেকুব বনে গেল বেচারা মোরগ) আরে নাহ্‌। আমি না। আমার এক বন্ধু, কোকিল। সিলেটে থাকে। খুব ভালো ছেলে।
– আচ্ছা আইডি দেন। দেখি কথা বলে।

কোকিল আর ময়ূর কথা বলতে থাকে ফেইকবুকে। ময়ুর যখন জানতে পারে যে কোকিল থাকে সিলেটে, এবং তার কাছে ময়ূরের ধরা পড়ার কোন ভয় নেই, সে খুব সহজেই কোকিলের সাথে বন্ধুত্ব করে নেয়। দুজনে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এদিকে মোরগ তো খুব খুশি। যাক! বন্ধু আর ছোট ভাইয়ের সাথে তো আর প্রেম করা যায় না, তাই ওদের মধ্যেই প্রেম করিয়ে দিতে পেরেছে সে।

কোকিলকে কয়েকদিন পর অনলাইনে পেয়ে সে জিজ্ঞেস করলো,

– কী বন্ধু, পরান পাখি পেয়ে আমাকে তো একেবারে ভুলেই গেছো!
– আরে ধুর মিয়া, রাখো তোমার পরান পাখি! এই ময়ুর পোলাটা ব্যাপক চাল্লু। আমারে দশ বার কিন্যা একশ বার বেচতে পারবে। ওর সাথে প্রেম ট্রেম করা আমার পক্ষে সম্ভব না। মাফ চাই!
– হায় হায় কও কি বন্ধু? তোমার সাথেও? কিন্তু ও তো ছেলে ভাল।
– ছেলে খারাপ আমি কি তা বলছি নাকি? ছেলে অবশ্যই ভালো। কিন্তু ব্যাপক পাকনা। এই কয়দিনেই আমাকে পুরা ধুয়ে ফেলছে।
– আহারে… বন্ধু আমার! তোমার জন্য কিছু একটা করতে চাইলাম, পারলাম না।
– ব্যাপার না বন্ধু। তবে ওর সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হইছে। ছেলে ভালো।
– হুম, তা ঠিক। ওর মনটা অনেক পরিস্কার। একটু দুষ্টামি করে ঠিকই কিন্তু বাস্তবতা জিনিসটা ও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বুঝে।
– একদম ঠিক বলেছ বন্ধু।

পরদিন মোরগকে অনলাইনে পেয়ে নক করলো ময়ূর,

– কী ব্যাপার? ভুলে গেছেন নাকি?
– নাহ্‌ ভুলবো কেন?
– তাহলে আগে হাই দিলেন না যে?
– দেখলাম তুমি দাও কিনা।
– মোরগ ভাই, আমার খুব মন খারাপ।
– কেন? কী হয়েছে?
– আপনাকে খুব কাছের একজন বলে মনে করি, তাই বলছি।
– হুম বল না!
– একটা কাকাতুয়ার সাথে বেশ কিছুদিন যাবত পরিচয়। ডাক্তারি পড়ছে। ওকে আমার খুব ভালো লাগে। সে মনে হয় আমাকে ভালবেসে ফেলেছে।
– তাহলে প্রব্লেম কোথায়? ভালবাসা ভালো না?
– ভালো। কিন্তু আমার ভয় হয়।
– কিসের ভয়?
– হারাবার।
– পাবার আগেই হারাবার ভয়?
– আমি এটা নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি। আচ্ছা দেখেন, কী লাভ এ ধরনের সম্পর্ক করে? যার কোন ভিত্তি নেই! কাকাতুয়া অনেক ভালো একটা পাখি। আমার অনেক কেয়ার করে। তাকে বলেছিও আমার টেনশনের কথা।
– কী বলল ডাক্তার সাহেব?
– বলল, সমস্যা কি? সমাজের প্রয়োজনে আমাদের যখন বিয়ে হবার, তখন হবে। বিয়ের আগ পর্যন্ত আমাদের সম্পর্কটা থাকল, আর বিয়ের পর আমরা শুধু ভালো বন্ধু হয়ে থাকলাম!
– হুম। তুমি কি বললে?
– ভাববার সময় চাইলাম।
– কিছু ভাবলে?
– হুম।
– কি?
– সম্পর্কটা করবো না।
– কেন? তোমার ও তো ওকে ভালো লাগে!
– লাগে, কিন্তু পেয়ে হারাবার কষ্টের চেয়ে না পাওয়ার কষ্টটা অনেক বেশি সহনীয়।

এর মাঝেই কোকিলের ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যায়। কোকিল তার প্রানের বন্ধু মোরগের সাথে দেখা করার জন্য ছুটে চলে আসে ঢাকায়। দুই বন্ধুর প্রথম দেখা, তারপরও এমন ভাবে দুজন দুজনের সাথে মিশে যায় যেন কতদিনের চেনা! ফেইকবুকের মাধ্যমে হওয়া বন্ধুত্ব সাধারণত এমন হয় না। তাদের এই বেসম্ভবকে সম্ভব করা বন্ধুত্ব দেখে অন্যরা কি অবাক হবে! মোরগ আর কোকিল নিজেরাই মাঝেমধ্যে নির্বাক হয়ে যায় অবাক হতে গিয়ে। দুজন একসাথে অনেক সুখ দুঃখের আলাপ করার পর হঠাত মোরগের উর্বর মস্তিষ্কে একটা বুদ্ধি আসলো। সে কোকিলকে বলল,

– বন্ধু, এক কাজ করো।
– কি কাজ?
– ময়ূরকে একটা কল দাও, আর বল যে তুমি ঢাকায় এসেছো।
– তারপর?
– তারপর ওর সাথে দেখা করতে চাও।
– ও, আর এই ফাঁকে তুমি ওকে দেখে নিবা, তাইতো?
– আরে বন্ধু, তোমার তো দেখি অনেক বুদ্ধি! ঠিক ধরেছো। ময়ূর মিয়া আমারে ঠিকই দেখে ফেলল, আর আমি এখনো ওকে দেখতে পারলাম না। তাই তোমারে দিয়েই ওকে ধরতে হবে।
– আচ্ছা, আমি ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ও যে চাল্লু মাল! ঠিকই ধরে ফেলবে যে তুমি আমার সাথে আছো।
– আরে তুমি কল দিয়েই দেখো না!

মোরগ নিজেকে অনেক বুদ্ধিমান মনে করলেও কোকিল কিন্তু ঠিকই বুঝতে পেরেছিল যে মোরগের এই ফালতু বুদ্ধিতে কোন কাজ হবে না। ময়ূর ঠিকই ধরে ফেলতে পারবে ওদের প্ল্যান। আর হলোও তাই। কোকিল ফোন দিয়ে বলল,

– ময়ূর, তুমি কই?
– কই আবার? বাসায়!
– আমি তো ঢাকায় এসেছি।
– ও। তাই নাকি?
– হুম। তোমার বাসার কাছেই আছি। দেখা করবা?
– করতে পারি, কিন্তু তোমার সাথে মোরগ ভাই নাই তো?
– না! মোরগ থাকবে কেন? আমি এসেছি তোমার সাথে দেখা করতে।
– আরে মিয়া! আমারে ভূগোল পড়াইতে আইসো না। তুমি যে মোরগ ভাইয়ের কত জিগরী দোস্ত, সেটা কি আমি জানি না মনে করছ? উনার সাথে দেখা না কইরা আমার সাথে দেখা করতে আসছো না? ফাউল প্যাচাল কম পাড়ো।
– হা হা হা! আচ্ছা, মোরগ থাকলেই বা কি সমস্যা? আসা যায় না?
– হুম আসা যায়। বেচারাকে অনেক দিন ধরেই ব্যাপক পেইন দিচ্ছি দেখা না করে। দাঁড়াও আজকে দেখা করবো। কই আছো তোমরা?
– তাল গাছের নিচে।
– ও, তাল গাছের নিচে? আচ্ছা, আমি আসছি।
ময়ূর আসতে বেশি একটা দেরি করে না। তাল গাছের নিচে ময়ূরকে আসতে দেখে মোরগ তাকে চিনে ফেলে। কোকিলকে বলে,
– আরে! এই সেই ময়ূর! এরে তো পাঠশালায় যাওয়ার পথে কতবার দেখেছি।
– হুম। কি? সুন্দর না দেখতে?
– আবার জিগায়! ময়ূর বলে কথা! সুন্দর তো হবেই। শুনলাম মডেলিং এর অফার টফারো নাকি পায়!
– হুম তবে করবে না। বাসা থেকে নিষেধ আছে।
– ও

ময়ূর কাছে আসলে কপট রাগ দেখায় মোরগ। বলে,

– কি দরকার ছিল আসার? আমি আছি জেনেও যে দেখা করতে চলে আসলে?
– আসলাম! ভাবলাম এই কয়দিন আপনেকে অনেক জ্বালাইছি। আর না। তাই আজকে যেহেতু আবার কোকিলও আছে তাই ভাবলাম আপনার সাথে আজকের দিনটায়ই দেখা করি।

মোরগ বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না। ছোটভাই বলে কথা! না হয় একটু দুষ্টামিই করেছে! মাফ করে দেয় সে ময়ূরকে। তিন পাখিতে মিলে হাঁটতে থাকে আর গল্প করতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে আসে এক পার্কে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় পাখপাখালি কম। তিনজন তাদের জীবনের নানা ধরনের গল্প করতে থাকে। হঠাত ময়ূর বলে ওঠে,

– আচ্ছা ভাইয়া, আমাদের জীবনটা এমন কেন হল বলতে পারেন?
– কেমন? (মোরগ জিজ্ঞেস করে)
– এই যে আমরা সমপ্রেমী! পাখিদের সমাজে ১০% হল সমপ্রেমী। আমরা কেন বাকি ৯০% এর মধ্যে পড়লাম না?
– জানিনা তো ভাইয়া!
– আমি সব সময় আনন্দে থাকার চেষ্টা করি। সবার সাথে মজা করি। কিন্তু আমার মাঝে মধ্যে খুব কষ্ট হয় এই কথা গুলো ভাবলে।
– তাহলে ভাবো কেন? (কোকিল বলে ওঠে)
– না ভেবে কি করবো?
– আচ্ছা, তোমার কি মেয়েদের একটুও ভালো লাগে না? (মোরগ বেকুবের মতো প্রশ্ন করে বসে)
– লাগবে না কেন? তবে ততটা না, যতটা একটা ছেলেকে দেখে লাগে। মনে করেন একটা সিনেমার গানে একটা মুরগী আর একটা মোরগ নাচছে। কিন্তু আমার কাছে মোরগের নাচটা, মোরগের ফিগারটা দেখতেই বেশি ভালো লাগে।
– কি করবা বল? আমরা তো এমনই! (দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে মোরগ)
– জানেন ? আমি না অনেক বার আত্নহত্যা করতে চাইছিলাম।
– কেন? (কোকিল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে)
– এই যে দেখেন! আমাদের এটা কোন জীবন হল? সারাটা জীবন অভিনয় করে কাটাতে হচ্ছে! আরো কত অভিনয় করতে হবে কে জানে? ধর্মেও এর কোন সমাধান দেয়া হয় নাই। বলা হয়েছে যে সমকামিতা পাপ, এর শাস্তি অনেক কঠোর। কিন্তু সমকামীতা দূর করার কোন পথা বাতলে দেয়া হয়নি। আমি ধর্মের কারনে কখনো কোন সমকামীতায় লিপ্ত হইনি। কিন্তু আমার যে সমলিঙ্গের পাখিদেরকেই ভালো লাগে! আমি কি করবো?
– দেখ ভাইয়া, আত্নহত্যা মহাপাপ। আমরা সমকামী হিসেবে যত অন্যায় আর পাপই করি না কেন, বেঁচে থাকলে এক সময় আমাদের কিন্তু তওবা করার একটা সুযোগ থাকে। কিন্তু যদি আত্নহত্যাই করে ফেলি, তাহলে কি আর তওবা করার কোন সুযোগ রইলো? (এই প্রথম বিজ্ঞের মত একটা কথা বলে মোরগ।)
– তাহলে আমি কি করব?
– কি আর করবা? এগুলো না ভাবলেই হয়! (কোকিল পরামর্শ দেয়)
– সেটাই ভাইয়া। বাদ দাও না! যা হবার হবে। বিধাতা যখন আমাদের এমন করে বানিয়েছেন, তখন তিনি যা করবেন, তাই হাসিমুখে মেনে চলা উচিৎ আমাদের। তাহলে হয়তো একসময় অনুগ্রহের বশবর্তী হয়ে তিনি আমাদের ক্ষমা করে দেবেন! আত্নহত্যা করে আমরা সেই ক্ষমার দরজাকে কেন বন্ধ করতে যাবো বল?
– হুম। ঠিক বলেছেন ভাইয়া। আমি আর এইসব ব্যাপার নিয়ে এত বেশি চিন্তা করবো না। যা হবার হবে।
– এইতো ভালো ছেলে।

রাত হয়ে আসে অনেক। সবারই বাসায় ফিরতে হবে। তাই সেদিনের মত সমপ্রেমী পাখিদের কলকাকলী সেখানেই শেষ হয়।

2 thoughts on “কলকাকলী

  1. Sex is most essential for all. Without sex life is not full & without fuck sex is not complete. So everybody always must fulfil ur sex with hard fucking. Sex is one of the nine reasons for reincarnation. The other eight are not so important.

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s