ইসলামে সমকামিতা

ইসলামে সমকামিতা হারাম। মানব সভ্যতার উন্নয়নে সমকামিতা এক বড় অন্তরায়। পৃথিবীতে মানুষের ফ্যামিলি ট্রি বাঁচিয়ে রেখেছে প্রজনন ধারা। সমকামিতা এমনই এক স্থবির সিস্টেম যেখানে বংশবিস্তারের কোন সুযোগ নাই।

*হাদিস ও কুরআনের আলোকেঃ
আল কুরআন এবং হাদিসের নানা জায়গায় সমকামিতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল কুরানের সাত জায়গায় লুত (আঃ) এর কওমের কথা বলা হয়েছে যাদের কে সমকামিতার অপ্রাধের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিন ধংশ করে দেন। লুত (আঃ) এর কওম বাস করত সোদম ও গোমরাহ নগরীতে। এই সোদম থেকে ইংরেজী সোডোমি শব্দটি এসেছে যেটা পায়ুকাম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

*আল কোরআনের সাত জায়গাঃ
১। সুরা আল আরাফের ৮০-৮৪ আয়াত
২। সুরা হুদ এর ৭১-৮৩ আয়াত
৩। সুরা আল আম্বিয়া এর ৭৪ আয়াত
৪। সুরা আল হাজ্জ্ব এর ৪৩ আয়াত
৫। সুরা আশ-শুয়ারা এর ১৬৫-১৭৫ আয়াত
৬। সুরা আন-নামল এর ৫৬-৫৯ আয়াত
৭। সুরা আনকাবুত এর ২৭-৩৩ আয়াত

“And (We sent) Lut when he said to his people: What! do you commit an indecency which any one in the world has not done before you? Most surely you come to males in lust besides females; nay you are an extravagant people. And the answer of his people was no other than that they said: Turn them out of your town, surely they are a people who seek to purify (themselves). So We delivered him and his followers, except his wife; she was of those who remained behind. And We rained upon them a rain; consider then what was the end of the guilty.”

আরবিতে সোডোমি কে বলা হয় liwat, আর যারা সমকাম করে তাদের বলা হয় luti, শব্দ দুটি হযরত লুত (আঃ) এর নাম থেকে এসেছে।

এবার আসুন আমরা দেখি হাদিসে কি বলা হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদেরা রাসূল (সাঃ) এর হাদীস ও সীরাহ থেকে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যদন্ড বিধান দিয়েছেন।

ইবনে আল যাওয়াজি থেকে বরনিত আছে যে রাসুল (সাঃ) কয়েকটি হাদিসে সমকামিতাকে অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং টপ ও বটম দুজনের জন্য মৃত্যদন্ডের শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন।

সুনানে আল-তিরমিজিীর ভাষ্য অনুসারে রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, “ কোথাও তুমি মানুষদেরকে লুতের কওমদের মত পাপ করতে দেখ, তাহলে তাকে হত্যা কর। যে এটা করে এবং যে এটাতে সাহায্য করে দুই জনকেই হত্যা করা।”

ইসলাম অনুসারে যে মানুষ লুতের কওমদের পাপ করে সে মুলত স্রষ্টার সৃষ্টির পথে বাধা সৃষ্টি করে। এক কথায় সে স্রষ্টার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এটা নৈতিক ও তত্ত্বীয় মুল সার কথা।
এই হাদিস গুলো থেকে প্রমানিত হয় ইসলাম পুর্বরতী আরব সমাজে ব্যাপকভাবে সমকামিতার প্রচলন ছিল। সমকামের প্রতি যে মানুষের আগ্রহ সেটা অস্বীকার করা যায় না। বিশ্বাসীদের জন্য আখিরাতে অপেক্ষা করছে বেহেশত। সেখানে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য অপেক্ষা করছে লাস্যময়ী হুর আর সুদর্শন গেলমান। গেলমান কি তা স্পষ্ট ভাবে বলা হয় নাই। তবে পারস্যের কবিরা যাকে সাকী বলেছেন আরবের সাহিত্যে সেটাই গেলমান ইঙ্গিত করে। মুসলমানের জন্য মদ হারাম। বেহেশতে তাই মদের ফোয়ারা দেয়া হবে।

****চার মাযহাবে সমকামিতা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছেঃ

ইসলামী আইন ব্যাখ্যাকারী চার ইমাম সমকামিতার শাস্তি কি হবে তা নিয়ে একমত হতে পারেন নি। আবু বকর আল জাসাস বলেন, সমকামীদের হত্যা করার ব্যাপারে যে দুটি হাদিস আছে তা গ্রহনযোগ্য নয় এবং উক্ত হাদিস অনুসারে তাদেরকে কোন বৈধ শাস্তি দেয়া যেতে পারে না। হানাফী মাযহাব অনুসারে শারীরিক কোন শাস্তি দেয়া যেতে পারে না। তিনি এই হাদিস টি কে ভিত্তি হিসেবে ধরেন, “Muslim blood can only be spilled for adultery, apostasy and homicide”। ইমাম হাম্বলী এগুলোর বিরোধিতা করেন এবং সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেন। ইমাম শাফী অর্থ দন্ডের দিকে মত দেন।

মৃত্যু কিভাবে কার্যকর হবে সে ব্যাপারে নানা মত আছে। আবু বকর বলেন, toppling a wall on the evil-doer অথবা জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলা হোক। অন্যদিকে আলি বিন আবু তালিব লুতি কে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দেন। ইবনে আব্বাস বলেন, এই শাস্তি অবশ্যই পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে দিতে হবে।

10 thoughts on “ইসলামে সমকামিতা

  1. একথা তো সত্য যে পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে তা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছে!

    Like

  2. প্রথমতঃ সমকামিতাকে আমি কোন ভাবেই সমর্থন করতে পারি না। আমার কাছে ব্যাপারটা এক ধরনের নোংরামী মনে হয়। কলেজ লাইফে বায়োলজি আমার ফোরর্থ সাবজেক্ট ছিল। তাই বৈজ্ঞানিক জীন ভুত নিয়ে কিছু বলবার সাধ্য আমার নাই। আমি সমাজের কথা বলতে পারি। এই সমাজে অনেক মানুষ অনেক অকাজ করে যা তার অভ্যাস প্রসুত। সেটাকে আমরা অন্যায় বলে মনে করি। এবং তার শাস্তি বা সংশোধনের ব্যবস্থা করি। সমস্ত অভ্যাস জীন থেকে আসে কিনা জানি না, শুধু জানি মানুষ অভ্যাসের দাস এবং চেষ্টা করলেই অভ্যাসকে বা স্বভাবকে পাল্টানো বা নিয়ন্ত্রন করা যায়। এবং যা মানবতার জন্যে ক্ষতির কারণ তা অবশ্যই পাল্টানো বা নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ।

    সব শেষে বলল, পশু পাখিরা সারা বছর সেক্স করতে পারে না। তাদের সেক্স র্নিদিষ্ট সময়ে প্রকৃতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মানুষ সারা বছরই সেক্স করতে পারে এখানে প্রকৃতি আমাদের প্রতি উদার। সেই সাথে মানুষের সেক্স শুধু বংশ বিস্তারের জন্যেই নয়। এখানে রয়েছে আবেগ, মমতা, ভাল লাগা এবং নৈতিকতার মত অনেক বিষয় যা পশুদের সেক্সে হয়ত সেভাবে নেই। যেহেতু আমারা পুরোপুরি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত নই সেহেতু আমাদের যা কিছু প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত তা মেনে নিয়ে যা নিয়ন্ত্রিত নয় তার জন্যে কিছু যথাপোযুক্ত নিয়ম কানুন তৈরী করা এবং মেনে চলা আমাদের কর্তব্য। সমকামিতা কোন যুগেই সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সেই নিয়মের অন্তরভুক্ত ছিল না। এখন দেখা যাক আমেরিকা সমকামিতাকে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।

    ভাল থাকবেন।

    Like

  3. স্বীকার করছি সমকামিতা বলেন, বহুগামিতাই বলেরন আর যেকোন অভ্যাস বলেন এগুলো ইগনোর করার ব্যাপার না।এগুলো প্রিভেন্ট করার ব্যাপার। তাই বলে একে অন্যের সমকামিতা বা বহুগামিতাকে নয়। প্রিভেন্ট করতে হবে ব্যাক্তিগতভাবে নিজেকে, নিজের কামকে। সে সমকামিতাই হোক, বহুগামিতাই হোক। আর আর এসব কারনেই ইসলামে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের কথা বলা হয়েছে। যেকোন স্বাভাবিক আচরনের জন্য সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের বিকল্প নাই।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s