সুখের অনুভূতি

রাইফেল স্কোয়ারের ওই পাশের মার্কেটে বেশ বড় একটা সিডির দোকান আছে। দোকানে স্মার্ট, সুদর্শন একটা ছেলে বসে থাকে। সে লক্ষ্য করল লাজুক টাইপের একটা ছেলে প্রতিদিন তার দোকানে আসে। তার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। কিছুই বলে না। তার চোখ কিন্তু কথা বলে। দুচোখে তার ভালোবাসার ঝিলিক বোঝা যায়। লাজুক ছেলেটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিদিন একটি করে সিডি কিনে নিয়ে সে বাড়ী ফিরে যায়। দোকানি ছেলেটা চুপচাপ তার চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। বছরখানের ধরে সে প্রতিদিনই আসে। একদিনের জন্য আসা বন্ধ করে নাই।

সপ্তাহখানেক হয়ে গেলো। ছেলেটির আর দেখা নেই। কিছু খোঁজাখুজির পর ছেলেটার বাসার হদিস বের করে ফেলল। কিছু ফুল নিয়ে সে দেখা করতে গেলো ছেলেটার সাথে। ছেলেটার কথা জিজ্ঞেস করার পর ছেলেটার মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। দেয়ালে ঝুলছে ছেলেটার হাসিমাখা একখানা ফোটোগ্রাফ। ছবির ভিতর দিয়েও সে তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ছেলেটার ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছিলো। সপ্তাহ খানেক আগে সে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে চিরতরে। দোকানের ছেলেটা সেই ছেলেটার রুম দেখতে চাইলো। তার মা তাকে রুমে নিয়ে গেলো। টেবিলের উপর সাজানো রয়েছে সিডি বক্সগুলো। ছেলেটার কোন সিডি প্লেয়ার নেই। সে ভালোবাসার টানে প্রতিদিন ছুটে যেত সিডির দোকানে। সিডি কেনার নাম করে মূলত ছেলেটাকেই দেখতে যেত।

দোকানি ছেলেটার চোখ ফেঁটে কান্না পেলো। এই সিডির বক্সগুলো যদি সে ওপেন করত তাহলে সে তার ভালোবাসার কথা জানতে পারত। তার অব্যক্ত ভালোবাসার কথা রেকর্ড করে পাঠাতো সে সিডিগুলোর ভিতরে। দুজন দুজনকে ভালোবেসে গেছে । কিন্তু অব্যক্ত ভালোবাসা অধরাই রয়ে গেলো। তাই কেউ যদি কাউকে ভালোবাসে, সত্যিকারের ভালোবাসে। তবে তার উচিত সেই ভালোবাসাকে প্রকাশ করা।

One thought on “সুখের অনুভূতি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s